কুরবানির পূর্ব ইতিহাসকে জানি



কোরবানি কি


কুরবানী শব্দটি হিব্রু কোরবান  আর সিরিয়াক ভাষার কুরবানা শব্দদুটির সংগে সম্পর্কিত যার আরবী অর্থ "কারো নিকটবর্তী হওয়া"।ইসলামি মতে কুরবানী হচ্ছে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট ব্যক্তির আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরস্কার লাভের আশায় নির্দিষ্ট পশু জবেহ করা।প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম ব্যক্তির উপর কুরবানি করা ওয়াজিব।মূলত এই কুরবানি হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের ২য় ঈদ।






কুরবানির পূর্ব ইতিহাস 



এই কুরবানি শব্দটা কিন্তু এমনি এমনিতেই তৈরি হয়নি। এর  পিছনে রয়েছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ কাহিনি।সেই কাহিনি আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার কাহিনি।

তার আগেই বলে নিতে চাই,আল্লাহ কিন্ত যাকে বেশি ভালোবাসেন তাকেই বেশি পরীক্ষা করেন।হযরত ইবরাহীম (আ) ছিলেন তেমনি একজন প্রিয় নবি যাকে মহান আল্লাহ তায়ালা এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করেছিলেন। তাঁর সমগ্র জীবন test and trail এর মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হয়েছে।কাহিনিটা হচ্ছে এইরুপ;


একদা ইবরাহিম(আ) স্বপ্নে দেখলেন যে,তিনি তার পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর পথে কুরবানি করছেন।
[বিদ্র; নবি-রাসূলদের স্বপ্ন সাধারণ মানুষের মতো ছিল না বরং ছিল খুবই তাত্পর্যপূর্ণ।]

তিনি এই স্বপ্ন দেখার পর চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কিন্তু তার ইমান এবং আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এতই দৃঢ় ছিল যে,তিনি তার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র  ইসমাইল যাকে তিনি অনেক অনেক দোয়া-প্রার্থনা এবং কয়েক বছরের অপেক্ষার পর পেয়েছিলেন তাকে তিনি আল্লাহর জন্য কুরবানি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। 


এই  লক্ষ্যে তিনি একদিন ইসমাইল(আ) কে বললেন - "চল আমরা ঘুরতে যাই"।পুত্র ইসমাইল বাবার এই কথা শুনে খুবই আনন্দিত হয়ে গেলেন।যাতায়াতকালীন সময়ে শয়তান তাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।একপর্যায়ে ইবরাহিম (আ) একটি খোলা মাঠে নির্জন জায়গায় ইসমাইলকে তাঁর দেখা স্বপ্নের কথা ব্যাখ্যা করলেন।তখন আমরা এক নতুন ইসমাইলকে দেখতে পাই।তিনি তার বাবাকে উদ্দেশ্যে করে বললেন যে,"আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করেন নিশ্চয়ই আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।" 
ইবরাহিম  (আ)কে উদ্দেশ্য করে আরও বললেন-"আমার হাত ও পা শক্ত করে বেঁধে দিন যাতে ছুরির আঘাতের সময় আমি হাত পা নড়াচড়া করলে তা আপনার শরীরে না লাগে এবং আমার মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিবেন যাতে আমার প্রতি আপনার  মায়া লেগে না যায় এবং আপনি রবের আদেশ থেকে বিমুখ না হয়ে যান।"ইসমাইল (আ) ধৈর্যশীলতার একটি উত্তম দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন মানবজাতির জন্যে। তারপর ইবরাহিম (আ) পুত্রকে মাটিতে শুইয়ে তাকে বেঁধে দিয়ে চুরি হাতে নিয়ে,আকাশের দিকে লক্ষ করে বলেন-"যদিও ইসমাইলকে আমি ভালোবাসি, কিন্তু আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা হাজার গুন বেশি।শুধু আপনার সন্তুষ্টির জন্য আমার প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে আপনার রাস্তায় কুরবানি দিতে প্রস্তুত। " [উল্লেখ্য যে এখানে "আপনার" মানে আল্লাহকে বুঝানো হয়েছে। ]তার এই অবস্থা দেখে ফেরেশতারাও কেঁদে ফেলছিলেন।যখন ইবরাহিম (আ) চুরি গলায় লাগালেন ঠিক তখনই আল্লাহ চুরিকে আদেশ দিলেন সে যেন ইসমাইলকে আঘাত না করে।ইবরাহিম (আ) যখনই চুরি দিয়ে কুরবানি করার চেষ্টা করেন ততবারই তাঁর চেষ্টা বিফলে যায়।এক পর্যায়ে আসমান থেকে ফেরেস্তা পাঠিয়ে আল্লাহ ইবরাহিম (আ) কে আদেশ দেন-"ইসমাইল এর পরিবর্তে এই দুম্বাকে কুরবানি দাও যেটি ফেরেস্তাদের সাথে আল্লাহ পাঠিয়েছেন।এটি আল্লাহ প্রদত্ত একটি পরিক্ষা ছিল তোমার জন্য।"

ইবরাহিম (আ) তার জীবনে অনেক পরিক্ষার সম্মুখীন হন কিন্তু এটি ছিল সবথেকে কঠিন পরীক্ষা। ইবরাহিম (আ) ইমান,তাকওয়া,আল্লাহর প্রতি তার একনিষ্ঠতা ও ভালোবাসা জন্য আল্লাহ তাকে তাঁর খলিল বা বন্ধু বানিয়ে দেন।

সর্বপরি,কুরবানি শব্দটা কিন্তু এমনি এমনিতেই আসেনি।হযরত ইবরাহিম (আ) ও হযরত ইসমাইল (আ) তাত্পর্যপূর্ণ এই ত্যাগের ঘটনা থেকেই প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুমিনরা আল্লাহর পথে হালাল পশুকে কুরবানি দিয়ে থাকে।এই দিনটি আমাদের প্রিয় ঈদ-উল-আযহার দিন।
 




Post a Comment

0 Comments