কুরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য


চিত্র :সংগ্রিহীত


হযরত ইবরাহীম (আ) ও ইসমাইল (আ)  এর সেই ত্যাগের ঘটনার স্মৃতিস্বরূপ আজও মুসলিম বিশ্ব কুরবানি করে থাকে,পালন করে থাকে ঈদ-উল-আযহা নামক মুসলিম জাহানের এই দ্বিতীয় ঈদটি।কিন্তু আমরা কি এটা শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে  বলতে পারি যে আমাদের এই কুরবানি মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট গ্রহণযোগ্য হচ্ছে ??? একটু ভেবে দেখুনতো হয়রত ইবরাহিম  (আ) পুত্র ইসমাইল (আ)কে যে বিশ্বাস ও তাকওয়া নিয়ে আল্লাহর পথে কুরবানি করার জন্য  রাজি হয়েছিলেন সেই বিশ্বাস কি আজও  আমাদের হৃদয়ে কাজ করছে?প্রশ্ন  করুন নিজেকে।।।।।


 এর পূর্বে চলুন জেনে নেই কিছু  হাদিস ও কুরআনের আয়াতের মুখোমুখি হই✔✔

আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই আপনাকে কাউসার দান করেছি। সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করুন এবং কোরবানি করুন। নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী নির্বংশ।’ (সূরা : কাউসার, আয়াত : ১-৩)


আল্লাহতাআলা নির্দেশ দিয়েছেন- আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।  (সুরা কাওসার:২)

অন্য আয়াতে এসেছে- (হে রাসূল!) আপনি বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ রাব্বুল আলামীনের জন্য উৎসর্গিত। (সুরা আনআম : ১৬২)

আল্লাহতাআলাও এটাই চান, বলেছেনও তাই- (মনে রেখো, কোরবানির জন্তুর) গোশত অথবা রক্ত আল্লাহর কাছে কখনোই  পৌঁছে না; বরং তার কাছে কেবলমাত্র তোমাদের পরহেজগারিই পৌঁছে। (সূরা হজ: ৩৭)✔✔


এবার চলুন এ সম্পর্কিত হাদিস জেনে নেই|||||||||


ইবন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ কুরবানী সুন্নাত এবং স্বীকৃত প্রথা

৫১৪৭। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের এ দিনে আমরা সর্ব প্রথম যে কাজটি করবো তা হল সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবো। এরপর ফিরে এসে আমরা কুরবানী করবো। যে ব্যাক্তি এভাবে তা আদায় করল সে আমাদের নীতি অনুসরণ করল। আর যে ব্যাক্তি আগেই যবাহ করল, তা এমন গোশতরুপে গন্য যা সে তার পরিবার পরিজনের জন্য আগাম ব্যবস্থা করল। এটা কিছুতেই কুরবানী বলে গন্য নয়। তখন আবূ বুরদা ইবনু নিয়ার (রাঃ) দাঁড়ালেন, আর তিনি (সালাতের) আগেই যবাহ করেছিলেন। তিনি বললেনঃ আমার নিকট একটি বকরীর বাচ্চা আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাই যবাহ কর। তবে তোমার পরে আর কারোর পক্ষে তা যথেষ্ঠ হবে না।


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে’। (ইবনে মাজাহ-৩১২৩)।

✪✪✪✪


কুরবানির গুরুত্ব ও তাত্পর্য 


কুরবানির গুরুত্ব,তাত্পর্য,প্রয়োজনীয়তা যাই বলি না কেন সবার প্রথমে যে বিষয়টার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তা হচ্ছে  "✔✔তাকওয়া✔✔"। প্রশ্ন জাগতে পারে তাকওয়া কি??? তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ভয়।। এই পৃথিবীতে আমরা যে যে রকমই ইবাদত করি সেই ইবাদত যদি এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ তায়ালার জন্য করি তাহলে সেই গভীর বিশ্বাসকে  আমরা তাকওয়া বলে থাকি। এটি হচ্ছে সেই বিশ্বাস  যেই বিশ্বাস নিয়ে নবি ইবরাহীম (আ) আল্লাহর পথে কুরবানি করেছিলেন। তাই কুরবানি দিতে হলে যে নিয়তটা সবার প্রথমই থাকা উচিত তা হচ্ছে তাকওয়া।




কিন্তু আজকাল আমাদের সমাজে কুরবানির বিষয়টা শুধু দামি দামি গরু বিক্রয় করা এবং লোকদেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। আমরা মনে করি আমাদের দায়িত্ব শেষ।অথচ কুরবানির মূল উদ্দেশ্য কি তা আমরা জানার চেষ্টা করি না।

এছাড়া কুরবানিতে গরুর গোস্ত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।এক অংশ গরিব-মিসকিনদের জন্য,এক অংশ প্রতিবেশীদের জন্য,আর এক অংশ নিজের জন্য রাখতে হয়।।এর ফলে একদিকে প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকবে।অন্যদিকে গরিব-মিসকিনদের অধিকার রক্ষিত হয়।


তাছাড়া কেউ যদি সহিহ নিয়ম ও নিয়ত এর উপর ভিত্তি করে কুরবানি দেয় তবে তার মধ্যে সর্বচ্চো ত্যাগ স্বীকার করার মনোভাব জাগ্রত হবে।জীবনে অনেক কিছু ত্যাগ করার প্রয়োজন হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কখনো নিজের আরাম -আয়েশ,কখনো নিজের অতি পছন্দের জিনিস। এভাবে জীবনের যাবতীয় ত্যাগ স্বীকার করার ক্ষমতাকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করতে কুরবানি আমাদের শিক্ষা দেয়।


কুরবানির দিনটি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় ইদ।এই দিনটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মূল্যবান উপহার স্বরূপ।কেননা  এই দিনে সকল মুসলমান সম্প্রদায় অতিতের সকল দুঃখ বেদনা ভুলে গিয়ে নতুন পোশাক পরে অত্যন্ত আনন্দের সাথে ইদ উৎযাপন করেন।
তাই এ দিনটি মানুষকে নতুনরূপে জীবন শুরু করার প্রেরণা জোগায়। 

✪∞✪∞✪∞
 
শেষকথাঃ

মোটকথা কুরবানি আমাদের জীবনের পরিবর্তনে অনেক গুরুত্ব বহন করে।কুরবানি শুধু গরু কুরবানিই বোঝায় না বরং যে সকল জিনিস আমাদেরকে আমাদের রব থেকে দূর করে সেই বিষয়কেও বুঝায়।বিশেষ করে আজকের এই যুগে যেখানে মানুষ পশু কুরবানির মধ্যেই নিজের দায়িত্বকে সীমাবদ্ধ করে রাখে সেই অবস্থানে দাড়িয়ে আজ আমাদের জন্য কুরবানি হচ্ছে তা যা আমাদেরকে আমাদের রব থেকে বিমুখ করে তার কুরবানি।আমরা কি পারি না ইদ-উল-আযহার এই দিনে গরুর জবাইের সাথে আমরা আমাদের কুপ্রবৃত্তিকেও জবাই করতে???আমরা কি এই অঙ্গিকার করতে পারি না বা আমরা কি নিজেকে যাচাই করতে পারি না আমাদের কোন কাজ আমাদের রব থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে???  আসুন আমরা সবাই কুরবানিতে এই অঙ্গিকার করি যে আমাদের সকল কুপ্রবৃত্তিকে জবাই করে আল্লাহর নৈকট্য  ও আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাবএবং বিতাড়িত শয়তান, আমাদের চরম শত্রু ইবলিসকে পরাজিত করেই ছাড়ব।।।।।✔✔

✪∞✪∞✪∞✪

Post a Comment

0 Comments