আল্লাহ
আমরা কি কেউ কখনো চিন্তা করেছি যে এই পৃথিবীতে আমরা কেন এসেছি? বা কিভাবেই বা পৃথিবী সৃষ্টি হলো?কেনোই বা আমরা ধর্ম মেনে চলি?সৃষ্টিকর্তা কি ,কেনো????
চলুন একটা প্রশ্ন করি আপনাদেরকে।আমি যদি আপনাকে বলি যে একটি নির্দিষ্ট স্থানে কিছু কাঠ রাখা আছে এবং সেই কাঠগুলো নিজে নিজে কাঠের বিছানা তৈরি করছে?একটা টেলিভিশন তার ভিতরের সমস্ত টেকনোলজি নিজেই তৈরি করছে??আপনার উত্তর কি হবে তখন?নিশ্চয়ই আপনি বিশ্বাস করবেন না।কেন?কারণ আপনার বিশ্বাস এই যে,নিশ্চয়ই সে কাঠ দিয়ে কেউ বিছানা বানাচ্ছে,ওই টেলিভিশন নিশ্চয়ই একজন বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন।
এখন আরেকটু চিন্তা করুন তো আমরা কিভাবে সৃষ্টি হলাম?নিশ্চয়ই একজন "CREATOR" আছেন।যদি আমরা এ পৃথিবীর কোনোকিছুই সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কল্পনাই করতে পারি না,যদি এটা ভাবা ছাড়া আমরা থাকতে পারি না যে এ পৃথিবীতে প্রত্যেকটা জিনিসেরই একজন CREATOR, একজন INVENTOR আছেন।তাহলে কেন আমরা এটা মানি না যে এ পৃথিবীর ও একজন CREATOR আছেন।কেন এটা মানি না যে আমরা নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি।নিশ্চয়ই একজন CREATOR আছেন??
আমরা জানি যে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে "Big Bang Blast" এর জন্য। কিন্ত কে এই blast করলো?
কেনো SPACE এর প্রত্যেকটা কণা নিজস্ব সুশৃঙ্খল নিয়ম অনুযায়ী চলছে?কেন Space এ থাকা একেকটা গ্রহ সুশৃঙ্খলভাবে তাদের নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরছে??কেনই বা এক গ্রহ অন্য গ্রহের সাথে সংঘর্ষ হয় না?? কার দ্বারা? কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলা সবকিছুই পরিচালনা করছেন বলেই সৃষ্টিজগতের সমস্ত কিছু সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।।
আমরা সবাই জানি আমাদের সবার পরিচিত i-phone এর একজন inventorআছেন।তিনি হলেন Steve Jobs।চিন্তা করেন তো ,যদি আমাদের সবচেয়ে পরিচিত i-phone এর হাত পা কিংবা মুুুখ থাকতো তাইলে কি সে বলত যে আমি নিজে নিজে সৃষ্টি হলাম। আচ্ছা যদি এটা বলেই ফেলতো তাহলে তার Creator এর প্রতিক্রিয়া কেমন হতো?নিশ্চয়ই আপনি বলতেন তার কথাটা বলা উচিত হয়নি।কেন?কারণ অবশ্যই এ কথা দ্বারা সে তার inventor কে অস্বীকার করছে।
তাহলে দেখুন আমাদের ও একজন inventor আছেন।শরিরের ভিতরে যা কিছু আমরা দেখতে পাই না, শরীরে থাকা শিরা উপশিরা কিভাবে কাজ করছে ?আপনি কি জানেন,আমদের গলায় থাকা স্বরযন্ত্র প্রতি মুহূর্তে খুলে ও বন্ধ হয়।কিন্তু আমরা যখন খাই সেই স্বরযন্ত্রের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।কিন্তু যদি এর মুখ খোলা থাকতো আর খাবার এর ভিতরে চলে যেত তাহলে হয়ত আমরা আমাদের স্বর চিরজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলতাম।কিন্তু কেন এ কাজটা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হচ্ছে?কেন আমরা জীবনের প্রতিটি কাজ করি?কেন ভাতই বা খাই?কেন বা ঘুমাই?
কারণ সবকিছু Well-planned ,Well-designed।কার দ্বারা?? পৃথিবীর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা দ্বারা। তিনিই আমাদের একমাত্র Designer ,একমাত্র Creator.
আপনি কি পৃথিবীর সবকিছু দেখতে পারেন একই টাইমে?সবকিছু শুনতে পারেন একই টাইমে?তাহলে কিভাবে আপনি বলতে পারেন আপনি জ্ঞানে অসীম,অতুলনীয় যখন একটা Exceptional কাজই আপনার জানা নেই।এটা আমরা অবশ্যই মনে রাখব যে,আমরা আমাদের Inventor এর উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবশ্যই Dependent ।এটা চলার জন্য হোক,খাওয়ার জন্য হোক,কথা বলার জন্য যাই হোক কিংবা যে কারণই হোক না কেন এ পৃথিবীতে থাকার জন্যই আমরা কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর উপর Dependent .
আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উপর এতই Dependent যে তাঁর নির্দেশ ছাড়া আমরা একটা পাতাও নাড়াতে পারি না।তার সত্বেও তিনি এতো দয়ালু(আর-রহমান) যে আমরা যখন তার অবাধ্য হয়ে অশ্লীল কিছু দেখি তখন তিনি আমাদের চোখ কেঁড়ে নেন না।যখন আমরা আমাদের হাত-পায়ের খেয়ানত করি তখন তিনি আমাদের হাত-পা কেটে দেন না।তিনি মালিকুল মুলকি বা সমগ্রজগতের বাদশাহ
হওয়ার সত্বেও তাঁর সাম্রাজ্যে আমরা বসবাস করে তাঁরই নাফরমানি করছি অথচ তিনি এতো করুণাময়(রহিমু)যে আমাদের শুধু অবকাশই দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যেখানে দুই জন বা তিনজন মানুষ একসাথে কথা বললে কারও কথাই ভালোভাবে বুঝতে ও শুনতে পারি না সে জায়গায় আল্লাহ(আস-সামিউন) শুধু মানুষ নয় জীন,পশু সবার কথার শুনেন, বুঝেন ও তাদের ডাকে সাড়া দেন।আল্লাহ(আল-লাতিফু)সকল গোপন বিষয়ে অবগত থাকেন।তাঁর কাছ থেকে কোনো কিছুই লুকানো সম্ভব নয়।আপনার-আমার কোনো জিনিস মুখে উচ্চারণ করার আগেই তিনি জানেন আমাদের মনের সকল অবস্থা। আমাদের কাছ থেকে কোনো কিছু চলে গেলে বা আমরা কোনো বিপদের সম্মুখীন হলে আল্লাহকে কত কিছুই না বলি অথচ আল্লাহ(আল-হাফিজু) আমাদের সামান্য কষ্ট দিয়ে কত বড় বিপদ থেকে যে রক্ষা করেন তা আমরা নিজেও জানি না।আল্লাহই(আল-বারিউ)সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।কারণ যে আমাদের খালিক ও সৃষ্টিকর্তা তিনিই ভালো করে জানবেন যে কোনটা আমাদের জন্য ভালো আর কোনটা আমাদের জন্য খারাপ।যদিও সেটি আমাদের চোখে ভালো হলেও at the end of the day নিজেই বুঝতে পারব কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ ছিল।বুঝতে পারব যে,সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনাই ছিল উত্তম পরিকল্পনা। একজন মা তার সন্তানকে এতই ভালোবাসেন যে তাকে তিনি আগুনে নিক্ষেপ করতে পারবেন না।আল্লাহ (আল-ওয়াদুদু)তার বান্দাদের সে মুসলিম হোক আর অমুসলিম হোক বা যেই হোক না কেন সেই মা থেকে ৭০গুণ বেশি ভালোবাসেন তিনি তার বান্দাদের।আল্লাহ বলেন-কেউ যদি দুনিয়া ও আসমানের সমপরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার সামনে হাজির হয়, আমার সাথে কাওকে শরিক না করে,তাহলে আমি সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমাদের সামনে হাজির হব।এ দুনিয়ার প্রত্যকটা প্রাণীর রিযিক আল্লাহর হাতে।সমুদ্রের প্রাণী থেকে শুরু করে আকাশের পাখি,মানুষ,জিন সবার খাদ্য, পানি,বেঁচে থাকার জন্য যাবতীয় সামগ্রী ব্যবস্থা করা বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর(আর-রাজ্জাক)হাতে। দুনিয়ার সমস্ত কিছুর নিয়ন্ত্রণে আছেন আল্লাহ (আল-ক্ববিদু)এই দুনিয়ার মানুষেরা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করে।আল্লাহ সমগ্র জগতের বাদশাহ হয়েও তিনি কারও উপর বিন্দুমাত্র জুলুম করেননা।বরং তিনি নিজের উপর জুলুম হারাম করে দিয়েছেন। তিনি হচ্ছেন (আল-হাকিমু)মহান বিচারক।তিনি যেমন কাফির -মুশরিকদের জন্য কঠোর ঠিক তার অপরদিকে তিনি তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য অতি ক্ষমাশীল ও দয়াবান সত্তা। তিনি তার প্রত্যেক বান্দার কথার উত্তর দেন।তাঁর প্রত্যেক বান্দার জন্য তিনিই হচ্ছেন (আল-ওয়াকিলু)বা বিপদে সহায়তা প্রদানকারী।
তাহলে কেনই বা আমরা এমন প্রতিপালক,এমন স্রষ্টার অনুগত্য করব না।তিনিইতো প্রকৃত ইলাহ।আমাদের অভিভাবক। যার সন্তুষ্টি হওয়াই উচিত আমাদের জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য। অথচ আমরা মানুষকে সন্তুষ্টি করাতেই ব্যস্ত।
0 Comments