পরীক্ষা! পরীক্ষা!
এই বান্ধবী,এই প্রশ্ন পড়ছিস??
~আর বলিস না,কিচ্ছু পড়ি নাই
~আমিও নারে,কি যে পরীক্ষা দিমু,আল্লাই জানে।
এই বান্ধবী দুই এর তিন নাম্বারটা বল
~এটা শ্বশন হইবো।হুম!
~শিউর তো?
~হু!পুরাই।আচ্ছা তিন এর চারটা কি?
~এটা ছয় হইবো।
কি বুঝলেন?পরীক্ষার মৌসুম?সত্যিই তাই নাকি??
তাহলে এখন একটা কথা বলি??
আসলে দুনিয়ার কোনো কিছুই ভেজালমুক্ত নয়।কোথাও দায়িত্বে ভেজাল,কোথায় সম্পর্কে ভেজাল,কোথাও কথায়,কোথাও খাবার আরও কত কি?পরীক্ষাটা কি তার ব্যতিক্রম?না?হ্যা?কোনটা?
আসলে পরীক্ষাটাও ভেজালের গন্ডির বাইরে নয়।এখানে আবার ভেজাল?
আচ্ছা বলছি দাড়াও।
আগে হক বা অধিকার ব্যাপারটা কি সেটাতে একটু হাত বুলাও।হক বা অধিকার বিষয়টি কি সেটা হয়তো আমরা সবাই জানি।কিন্তু কতটুকু এপ্লাই করি আসলে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।এ পৃথিবীতে সবকিছুই হকের উপর বা একজন আরেকজনের প্রতি অধিকারের উপর প্রতিষ্ঠিত।। এখানে একজন আরেকজন বলতে কি আমি শুধু রক্ত মাংসে গড়া মানবমন্ডলিকে বুঝাচ্ছি?? যদি শুধু তাই হতো এ পৃথিবীতে মানবমস্তি্স্কের অস্তিত্ব ছাড়া আর কিছুই থাকতো না।পৃথিবীতে আসার পর একজন মানুষের জীবনে আসা অনেকগুলো চ্যালেন্জের মধ্যে একটা হচ্ছে হকের প্রতিষ্ঠা করা।এ পৃথিবীতে প্রত্যেকটা বস্তু,বিষয়, ফ্যাক্টের একটা হক রয়েছে।আর জীবনে তুমি যে ব্যক্তি,বস্তু, পরিস্থিতি,মানুষ,বা যারই সংস্পর্শে একটু হলেও এসেছ তার উপর সেই হক আদায় করাটা তোমার উপর সাব্যস্ত হয়ে যায়।কিন্তু হকটা কি??সেটা কি জানি আমরা?আসলে জানিনা বলেই বুঝিনা,বুঝিনা বলেই পৃথিবীকে বানিয়েছি অরাজক।ভুল বলছি নাকি?আমার মনে হয়,এ পৃথিবীতে আমরা যদি হক
জিনিসটা প্রতি একটু চেয়ে দেখতাম তাহলে হয়তো এখন এ পৃথিবী যেমন তার চেয়ে আরও সুন্দর হতো.আসলে হক হচ্ছে এক বস্তুর উপর আরেক বস্তুর অধিকার।যা দয়াময় আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।।যেমন:স্ত্রীর উপর তা স্বামীর হক হচ্ছে তার সেবা করা তার যাবতীয় ইচ্ছে পূরণ করা।ঠিক অনুরূপভাবে স্বামীর উপর স্ত্রীর হক হচ্ছে স্ত্রীর যাবতীয় সকল ইচ্ছে পূরণ করা।
কিন্তু পরীক্ষা জিনিসটার সাথে হক
জিনিসটার সম্পর্ক কি??কোনো সম্পর্ক আছে কি?আসলেই আছে।আমাদের identify না করতে পারা অনেকগুলো হকের মধ্যে একটি।
তা কেমনে??এ পৃথিবীতে প্রত্যেক ব্যক্তির তার নিজের ইলমের উপর একটা হক রয়েছে।তা হচ্ছে যে ইলমটা তুমি নিলা সেটা যদি ভালো হয় তাহলে সে ইলমের যথাযথ প্রতিফলন ঘটানো।আর যদি খারাপ ইলম নাও তবে তা থেকে দূরে থাকা।
এখন আমরা যখন পরীক্ষা (এখানে শুধু আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে পরীক্ষাকে বুঝাচ্ছি) দেই তখন কিন্তু আমরা একজন আরেকজনের ইলমের হকটা কিন্তু নষ্ট করি।তা কিভাবে?আচ্ছা মনে করো-একটা পরীক্ষার জন্য এক বন্ধু পড়লো ১০ ঘন্টা,তুমি পড়লা ৯ ঘন্টা।পরীক্ষার হলে গিয়ে তুমি সেই বন্ধুকে এই প্রশ্নের উত্তর বলার জন্য অনুরোধ করলা আর সে বলেও দিল।তাতে হক নষ্টটা হচ্ছে কিভাবে?দেখো,তোমার বন্ধু কিন্তু তোমার চাইতে ৬০ টা মিনিট বেশি পড়ছিল,কী? সেই স্বীকৃতি দিতে রাজি নই?আচ্ছা যাও ৫০ মিনিট,আচ্ছা যাও ১০ মিনিট,আচ্ছা মনে করো at least ০.৬০ সেকেন্ড তোমার বন্ধু তোমার চেয়ে বেশি পড়ছে।ওই ক্ষুদ্র সময়টুকুতে সে যদি একটা অক্ষর,একটা বাক্য,একটা সূত্র ও যদি তার মাথার খুলির মধ্যে ঢুকিয়ে থাকে তাহলে তার উপর সেই শব্দ,সেই বাক্য,সেই সূত্রটুকির হক আদায় সাব্যস্ত হয়ে যায়।আর সেই জায়গায় তুমি কি করছো?তুমি কি তাকে এতো কষ্ট করে কাটানো সেই ০.৬০ সেকেন্ড এরও মূল্য দিবে না?কিন্তু কই দিচ্ছ?
তুমি যে তার কাছ থেকে তার ইলমটা নিজের নাম লিখিত খাতায় লিখে নিচ্ছ?সাহস আছে?রিজাল্ট পাওয়ার পর full কনফিডেন্সে বলার "এই খাতায় পাওয়া প্রত্যেকটা ০.৫ মার্ক একদম তোমার অর্জিত"।
সাহস আছে?এ কথা বলার-যে তোমার খাতার মার্কস পাওয়ার মধ্যে অন্য কারও ইলমের অবদান আছে।
যাই হোক!আসলে অন্যের ইলমটাকে আমরা সেভাবেই হক নষ্ট করার আওতায় আনছি।নিশ্চয়ই সকল মানুষের পরীক্ষার জন্য পড়াশোনার টেকনিক আলাদা।কেউ মুখস্থ করে,কেউ হয়তো শুধু বুঝে, কেউ হয়তো প্রেকটিস করে আরও কত কি;কিন্তু যে যেভাবেই হোক না কেন,যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন এটা তার একান্তই নিজস্ব শ্রম,নিজস্ব কষ্ট যা সে নিজে সহ্য করে,যা অর্জন করতে তুমি ওর সাথে পড়োনি,যা অর্জন করতে তুমি তোমার খুলিটার সাথে ওর খুলিখানি add করোনি।তুমি যা পড়েছ তার উপর হকটা একান্তই তোমার,সে যা পড়েছে তার উপর হকটা একান্তই তার,।।।কাজেই তোমার বন্ধু যখন তোমাকে এমন কিছু বলে দিয়েছে যে ইলমটা অর্জনের জন্য তুমি আদৌ কোনো শ্রম দাও নি,তাহলে সে যেমন অন্যকে বলে দেয়ার মাধ্যমে তার ইলমের হক নষ্ট করছে,তেমনি তুমি তার জ্ঞান নিজের জ্ঞান হিসেবে চালিয়ে নিয়ে তার ইলমের হক নষ্ট করছো।
বিষয়টা অনেকটা কপিরাইট আইনের মতো।এই আইনের আওতায় ব্যক্তি যে সৃষ্টিশীল কর্ম করে, সেই সৃষ্টিশীল কর্মে শুধু তারই অধিকার থাকে।কেউ যদি তার সেই অধিকার ব্যবহার করতে চায় তবে সে তা তাকে স্বীকৃতিসহিত করতে হবে।কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে,এই Field এ কেউ অন্যের হক নষ্ট করতে অনেক ভয় পায় এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করে অন্যের সৃষ্টিশীল কর্মের অধিকার রক্ষার।কিন্তু পরীক্ষা জিনিসটার ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন দাড়িয়েছে যে-যে তাকে দেখালো সে একজন so called হেল্পফুল বলে বিবেচিত হলো।
এখন দেখো!বছরের কয়টা দিন পরীক্ষা হয় গুনেছ?নো টেনশন,আমিও গুনিনি।এটলিস্ট চিন্তা করেছি, প্রায় ৩০-৪০ দিন বা তার চেয়েও খুবই কম।বাকি থাকল কয়দিন? প্রায় ৩২৫ দিন।তাই না?এখন একটু চিন্তা কি করতে পারি যে আমরা ৩২৫ টা দিন একটা ফ্রেন্ডকে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে হেল্প করতে পারি।ভেবেছ?এর মাধ্যমে তুমি কতটা অবদান রাখতে পারও একজন মানুষের জীবন গড়তে?কিন্তু কেনো আমরা সারা বছর তা না করে শুধু পরীক্ষার দিনটাই পাই একজনকে সাহায্য করতে?মিথ্যা সাহাযের ছোয়ায় একজনের হক নষ্ট করি? কেনো রেগুলার লাইফে একজন একটা নোট চাইলে আমরা তা দিতে রাজি নই অথচ পরীক্ষায় নিজের টাইম,মগজ ঘিলু বিলিয়ে দিতে রাজি??
এই কথা তো আমরা জানি তাই না?যে একটা দিন, একটা জীবন, একটা phase অবশ্যই আসবে যখন তোমাকে আমাকে এই পৃথিবীর creator এর সামনে দাঁড়াতে হবে।তখন কিন্তু আমাদের সবাইকে সেই মহান সত্ত্বার কাছে পরীক্ষা দিতে হবে।পরীক্ষাটা কীরূপ হবে? তা হলো দুনিয়াতে আমি আমরা যে এক একটা সেকেন্ড, এক একটা সময়, এক একটা মুহূর্ত পার করেছি তার প্রত্যেকটা হিসাব দিতে হবে।তখন সেই হিসাবটা তোমাকে নিজেই দিতে হবে।দুনিয়াতে যে success এর জন্য তুমি তোমার আল্লাহকে ছেড়ে ছিলা সে প্রতিদানও তুমি পাবা আর যে success এর জন্য তুমি দুনিয়াকে ছেড়েছিলা তার প্রতিদানও তুমি পাবে।তখন কিন্তু তুমি আমি কেউ কাওকে বলতে পারবো না এটার আন্সার কি হবে?তখন পরীক্ষাটা শুধুমাত্র কেবলমাত্র তুমি আর তোমার পালনকর্তা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালার মধ্যেই থাকবে।তোমার মা-বাবা,ভাই-বোন,অতি ঘনিষ্ঠ ফ্রেন্ডের সাহায্যও তোমার নসিব হবে না।অবশ্য এই দিনটায় successful হওয়ার জন্য কিন্তু দুনিয়ায় একে অন্যকে নাসিহা দেওয়ার জন্য,হেল্প করার জন্য encourage করা হয়েছে।ঠিক যেন একটা 'পরীক্ষা'কনসেপ্ট এর পূর্ণরূপ।
আসলে এ পৃথিবীর করুণ সত্য এটাই যে যারা সততার সাথে কাজ করেছে,চাকরি করেছে অথবা যা কিছুই করেছে বা করতে চেয়েছে তারা কেউই এই competitive world এ যে অনেক উঁচু স্থানে গিয়েছে তার পুরো নিশ্চয়তা আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারে নি, পারবে না।কিন্তু তার মানে কি সততা সত্যবাদিতা তোমাকে কিছুই দিবে না??হয়তো visible success তুমি নাও পেতে পারও, কেনো জানো?এই success তো তুমি পেয়েই গেছো।যা তোমার জন্য specially সংরক্ষিত আছে।যা তোমাকে দেওয়া হবে ওইদিন যখন তা পাওয়ার জন্য তুমি প্রস্তুত থাকবে।তুমি ১০০ পাওনি? আচ্ছা যাও ৭০ পেয়েছ।তাও পাওনি?আচ্ছা যাও ৩০ তো পেয়েছ!কিন্তু at least ওই খাতাটার প্রত্যেকটা লেখা প্রত্যেকটা অক্ষর তুমি যদি "এই ------- কি হবে?"লাইনটা ছাড়া লিখতে পারো,তোমার চেয়ে বড় সফল ব্যক্তি আর কেউ হবে না। এর প্রতিদান যে কত বড় পেতে পারে তা কি তুমি চিন্তা করেছ??তোমার কি মনে হয়?আল্লাহর আরেক নাম ''আর রহমান' 'আর রহিম'কি এমনিতেই?যিনি এই মহাবিশ্বের প্রত্যেকটা বস্তু 'হও' বলার সাথে সাথে সৃস্টি করার ক্ষমতা রাখেন সেই বিশাল সত্তার পক্ষে তোমাকে তোমার সততার প্রতিদান যা তুমি deserve করো তা দেওয়া কি কষ্টকর হবে?বলো?মোটেও না!
একটু কষ্ট করো,একটা লাইন ভুলে গেছো?its ok এই লাইনটা তোমার মনে রাখা তোমার destiny তেও ছিলো না and of course you can't change the destiny unless Allah wills it to be।হয়তো তোমার জন্য সেই লাইনের একটা ব্যাটার versionঅপেক্ষা করছে।তুমি মানুষ।তোমার সম্মান এই পৃথিবীর প্রত্যকটা প্রাণী অপেক্ষা বেশি।কেনো?আল্লাহ তোমাকে এই সম্মান" the greatest creation "হওয়ার মর্যাদা কেনো দিলেন?তিনি চাইলেই ফেরেশতাদের দিতে পারতেন,তিনি চাইলে শুধুমাত্র ''Socrates,Albert Einstein কেই দিতে পারতেন।তাই না।কিন্তু না,আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে সেই সম্মান দিয়েছেন।ভুলে যেয়োনা তার মধ্যে তুমিও আছ।কিন্তু কেনো?নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে এই মর্যাদা পাওয়ার ability আছে বলেই তিনি তা তোমাকে দিয়েছেন।কাজেই একটু চিন্তা করলেই তুমি পারবে।ইনশাআল্লাহ। নিরাশ হবে না।একটুখানি faith তোমার নিজের উপরও রেখো।আর সবচেয়ে বড় Faith সেই বিশাল সত্তা আল্লাহর উপরেও রেখো যিনি তোমাকে সেই faith হাসিল করার মতো শক্তি দিয়েছেন।
জাযাকিল্লাহু খইরন ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরহ।

0 Comments